
এবার ঈদুল আজহায় উত্তরা সেন্টার মেট্রোস্টেশনের নিচে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে প্রায় ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদ ধ্বংস করেছে বিএনপি-জামায়াত। অথচ তাদের মুখে লেগে আছে সুশাসনের বুলি।
ঘটনা কী? ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল নামের বিএনপির এই অঙ্গ সংগঠনটি ইজারা পায় দিয়াবাড়ির বউবাজার এলাকায় হাট বসানোর। কিন্তু তারা নির্ধারিত সীমানা মানেনি। মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের ফুটপাত, সৌন্দর্যবর্ধনের গাছপালা আর নিরাপত্তা বেষ্টনী পদদলিত করে চালানো হয়েছে পশুর হাট। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তদন্ত কমিটি যে চিত্র দিয়েছে তা চোখ কপালে তোলার মতো। গাছপালার ক্ষতি ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সুরক্ষা বেড়ার ক্ষতি ৬ লাখ টাকা, আর হাটের পর ময়লা পরিষ্কার করতেই গেছে আরও ৫ লাখ টাকা।
এই হাটের ইজারা ছিল স্বেচ্ছাসেবক দলের হাতে। দায়িত্বে থাকা ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বারবার নিষেধ করলেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। ব্যবসায়ীদের সরাতে ব্যর্থ হওয়া তো দূরের কথা, ইজারাদার উল্টো দাবি করে বসে পুরো এলাকাই নাকি তাদের ইজারার আওতায়।
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আমরা আবার দেখতে শুরু করলাম সেই চিরচেনা বিএনপি-জামায়াত সংস্কৃতি। যে দলগুলো ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে গেছে, সেই দলগুলোর অঙ্গ সংগঠন আজ উত্তরার মতো পরিকল্পিত এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। উন্নয়নের প্রতীক মেট্রোরেল স্টেশনকে তারা গোহাটায় পরিণত করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
অথচ এই দলগুলোই এখন নৈতিকতার দোহাই দেয়। এরা দেশ চালাবে কী করে? যেখানে দলের একটি অঙ্গ সংগঠনও নিয়ম মানতে শেখেনি, সেখানে রাষ্ট্র চালানোর সক্ষমতা তাদের আছে বলে দাবি করা নিছক প্রহসন।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জামানত থেকে পুরো টাকা কেটে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ৩০ লাখ টাকায় কি পাবলিক সম্পদের ওপর আস্থার যে সংকট তৈরি হল তার ক্ষতিপূরণ হয়? যে ট্রাস্ট একবার নষ্ট হয়, সেটা আর ফেরানো যায় না। এই হামলা নিছক সম্পদ ধ্বংস নয়, বরং জনগণের করের টাকায় গড়া স্থাপনার প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান।
সূত্র: https://www.ittefaq.com.bd/793180